তিনটি কথা মায়া আজ নতুন শহর থেকে বাড়ি ফিরছে। চারটা দশে তার শেষ বাস। সে বাসের পাশের ছোট ক্যাফেতে বসে। হাতে এখনও বিশ মিনিট সময় আছে। মায়া চা শেষ করে নিচে তাকায়। টেবিলের নিচে একটি কাগজ পড়ে আছে। পাশে একটি নীল ব্যাগও আছে। সে কাগজটি তুলে তিনটি কথা পড়ে। চিনি ছাড়া চা। লাল ওড়না ফেরত দিতে হবে। চারটা দশের বাস, আসন ছয়। মায়া ব্যাগটি তুলে কাউন্টারে যায়। কামাল তখন কাপ ধুচ্ছে। মায়া বলে, “এই ব্যাগ কি আপনার?” কামাল বলে, “না, আমি ব্যাগটি দেখিনি।” “এখানে কে বসেছিল?” “অনেক লোক বসেছিল।” “কেউ কি চিনি ছাড়া চা খেয়েছে?” কামাল কাপ নামিয়ে মায়ার দিকে তাকায়। “হ্যাঁ, এক নারী খেয়েছেন।” “তিনি কোথায় গেছেন?” “তিনি ওই ওড়নার দোকানে গেছেন।” মায়া ব্যাগ নিয়ে পাশের দোকানে যায়। দোকানের সামনে লাল ওড়না ঝুলছে। রেবা টাকার বাক্স বন্ধ করছে। মায়া বলে, “কেউ কি লাল ওড়না ফেরত দিয়েছে?” রেবা বলে, “হ্যাঁ, একটু আগে দিয়েছেন।” “তিনি কি নীল ব্যাগ এনেছিলেন?” “হ্যাঁ, ব্যাগটি তার হাতেই ছিল।” “তিনি এখন কোথায়?” “চারটা দশের বাস ধরতে গেছেন।” মায়া ঘড়ি দেখে। আর মাত্র সাত মিনিট আছে। সে দ্রুত বাসের দরজায় যায়। বাদল দরজার পাশে টিকিট দেখছে। মায়া বলে, “আসন ছয় কোথায়?” বাদল বলে, “জানালার পাশে।” “সেখানে কে বসে আছেন?” “এক নারী বসে আছেন।” “তার কাছে কি নীল ব্যাগ আছে?” বাদল ভেতরে তাকিয়ে বলে, “না, নেই।” মায়া বাসে উঠে আসন ছয়ের কাছে যায়। শিউলি নিজের পায়ের কাছে বারবার দেখছে। তার হাতে একটি কাগজের টিকিট আছে। মায়া বলে, “আপনি কি কিছু খুঁজছেন?” শিউলি বলে, “আমার নীল ব্যাগ খুঁজছি।” “আপনি কি চিনি ছাড়া চা খেয়েছেন?” “হ্যাঁ, কিন্তু আপনি জানলেন কীভাবে?” “আপনি কি লাল ওড়না ফেরত দিয়েছেন?” “হ্যাঁ, ওড়নাটি ছোট ছিল।” “আপনার আসন কি ছয়?” শিউলি টিকিট দেখিয়ে বলে, “হ্যাঁ, এই দেখুন।” মায়া ব্যাগটি সামনে আনে। “তাহলে এই ব্যাগ আপনার।” শিউলি ব্যাগের হাতল ধরে। “আমার টাকা আর বাড়ির চাবি ভেতরে আছে।” “একবার দেখে নিন।” শিউলি ব্যাগ খুলে টাকা গোনে। তারপর ছোট চাবিটি বের করে। “সব আছে,” শিউলি বলে। “আপনি ব্যাগটি কোথায় পেলেন?” মায়া কাগজটি তার হাতে দেয়। “আপনার তিনটি কথা পথ দেখিয়েছে।” বাদল বাইরে থেকে বলে, “বাস এখন ছাড়বে।” মায়া নিজের আসনে বসে বলে, “দরজা বন্ধ করুন।”