জোয়ার ফেরার সময় আজ রফিকের মাছ নিয়ে ঘরে ফেরার কথা। সে সুন্দরবনের কাছে কালো খালে নৌকা চালায়। দুপুর পেরিয়ে যায়। নৌকায় এক জগ জল আছে। তার হাতে একটি ছুরি আছে। হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়। রফিক দড়ি টানে। ইঞ্জিন আর চলে না। সে তেলের ঢাকনা খোলে। ভেতরে তেল আছে। সে ছুরি দিয়ে ছোট পাইপ কাটে। পাইপে কাদা জমে আছে। সে কাদা বের করে। আবার ইঞ্জিন চালায়। ইঞ্জিন চলে না। রফিক নিচু হয়ে জল দেখে। নৌকার তলায় জল ঢুকছে। সে একটি ছোট বালতি নেয়। সে জল ফেলে। তারপর আবার ইঞ্জিন দেখে। “চল, চল,” রফিক বলে। “এখন থামিস না।” ইঞ্জিন চুপ থাকে। খালের জল ধীরে অন্য দিকে যায়। জোয়ার ফিরছে। নৌকা ধীরে ঘুরে যায়। রফিক দাঁড় হাতে নেয়। সে নৌকা ঠেলে ঘোরাতে চায়। কিন্তু নৌকা কাদায় আটকে যায়। “নৌকা, এখন ছাড়,” সে বলে। “এখন ছাড়।” সে দাঁড় কাদায় ঢোকায়। দাঁড় ভেঙে যায়। রফিক ভাঙা দাঁড় ফেলে দেয়। সে দড়ি ধরে নৌকার সামনে যায়। দড়ির মাথা জলে ফেলে না। সে ছুরি দিয়ে দড়ি কাটে। দড়ি জালে আটকে আছে। জালটি নৌকার পাশে টান ধরেছে। রফিক জাল কাটে। একবার কাটে। আবার কাটে। জাল নরম হয়। জল নৌকাকে পেছনে টানে। “এই বার,” রফিক বলে। “এই বার নৌকা যাবে।” সে নৌকার পাশে লম্বা বাঁশ খুঁজে পায়। বাঁশটি নৌকার তলায় ছিল। সে বাঁশ কাদায় বসায়। দুই হাতে চাপ দেয়। নৌকা একটু সরে। সে আবার চাপ দেয়। নৌকা আরও সরে। রফিক শ্বাস নেয়। তার গলা শুকিয়ে আছে। সে জগটি খোলে। এক ঢোক জল খায়। তারপর জগ বন্ধ করে। “আর জল আছে,” সে বলে। “রাতের জন্য জল আছে।” সে নৌকার তলায় কাপড় বিছায়। তার জামা ভিজে গেছে। সে ভেজা জামা খুলে মেলে। বাতাস ঠান্ডা হয়। সূর্য নিচে নামে। রফিক শুকনো কাঠ খোঁজে। মাছ রাখার বাক্সের নিচে তিনটি কাঠ পায়। সে ছোট চুলা বের করে। ছুরি দিয়ে শুকনো দড়ি কাটে। দড়ির আঁশ কাঠের নিচে রাখে। সে আগুন জ্বালে। প্রথমে আগুন নিভে যায়। “আবার,” রফিক বলে। “আবার আগুন।” সে মুখ দিয়ে ধীরে বাতাস দেয়। কাঠে আগুন ধরে। সে হাত আগুনের কাছে রাখে। তারপর ভেজা জামা আগুনের পাশে ধরে। জামা থেকে জল পড়ে। অন্ধকার নামছে। খালের দুই পাশে গাছ দেখা যায় না। রফিক নৌকার দড়ি ছোট গাছের সঙ্গে বাঁধে। সে দড়ি দুই বার পরীক্ষা করে। ছুরিটি কোমরের পাশে রাখে। জগটি মাথার পাশে রাখে। “আজ রাতে নৌকায় থাকব,” রফিক বলে। “সকাল হলে জল কমবে।” সে আবার জগ খোলে। এক ছোট ঢোক জল খায়। ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করে। তারপর সে আগুনের পাশে বসে থাকে।