কে ডেকেছে শিবুকে আজ কলকাতার বাড়িতে মিতার বিয়ের কথা পাকা হওয়ার দিন। দুপুরে সবাই বসার ঘরে অতিথির অপেক্ষা করছে। টেবিলে ভাত, মাছ, ডাল আর মিষ্টি রাখা আছে। তখন দরজায় শিবু এসে দাঁড়ায়। শিবু বলে, “নমস্কার। আমি বসব কোথায়?” মিতা উঠে বলে, “আপনি কে?” শিবু চেয়ারে বসে বলে, “আমি শিবু। আমাকে ডাকা হয়েছে।” মিতা মায়ের দিকে তাকায়। “মা, তুমি ডেকেছ?” মা মীরা বলে, “আমি কাউকে ডাকিনি। আমি শুধু রান্না করেছি।” বাবা অনিল বলে, “আমি শিবুকে ডাকিনি। আজ মিতার কথা পাকা হবে।” শিবু হাত ধুয়ে ফিরে আসে। “তাহলে ভাত দেবেন?” অনিল বলে, “আপনাকে কে ডেকেছে?” শিবু বলে, “আমি বলেছি, আমাকে ডাকা হয়েছে।” মীরা বলে, “কিন্তু কে ডেকেছে?” শিবু টেবিলের দিকে তাকায়। “যে ডেকেছে, সে খাবারও রেখেছে।” মিতা বলে, “এখানে কেউ আপনাকে ডাকেনি।” শিবু শান্তভাবে বলে, “তাহলে আমি ভুল বাড়িতে এসেছি?” অনিল দরজার দিকে যায়। “আপনার ঠিকানা কী?” শিবু পকেট থেকে কাগজ বের করে। “এই বাড়ির ঠিকানা।” অনিল কাগজ দেখে চুপ করে থাকে। ঠিকানাটি তাদের বাড়িরই। মীরা বলে, “মিতা, তুমি কি ডেকেছ?” মিতা বলে, “আমি শুধু পাত্রকে ডেকেছি।” শিবু সঙ্গে সঙ্গে বলে, “আমি পাত্র নই। আমি শিবু।” অনিল বলে, “তাহলে আপনি কেন এসেছেন?” শিবু বলে, “আমাকে ফোনে বলা হয়েছিল, আজ আসতে।” মীরা বলে, “ফোনে কে বলেছিল?” শিবু বলে, “একজন মহিলা।” মীরা বলে, “মহিলার নাম?” শিবু বলে, “নাম বলেননি।” মিতা বলে, “তার গলায় কি আমার মতো শব্দ ছিল?” শিবু বলে, “না। আপনার গলা ছোট।” মিতা বলে, “আমার গলা ছোট?” শিবু বলে, “আপনার কথা ছোট। আপনি কম কথা বলেন।” অনিল চেয়ারে বসে। “আপনি কি পাত্রের বাড়ি থেকে এসেছেন?” শিবু বলে, “না। আমি কাপড়ের দোকানে কাজ করি।” মীরা বলে, “আপনি কি মিতার জন্য এসেছেন?” শিবু বলে, “আমি ভাতের জন্যও এসেছি।” মিতা বলে, “আপনি এখনই চলে যান।” শিবু বলে, “চলে যাওয়ার আগে মাছ খেতে পারি?” অনিল বলে, “কে আপনাকে মাছের কথা বলেছে?” শিবু বলে, “আপনার বাড়ির গন্ধ বলেছে।” মীরা দ্রুত বলে, “মাছ দেব না। আগে বলুন, কে ফোন করেছিল।” শিবু কাগজটি আবার দেখে। “ফোনে বলা হয়েছিল, খালি হাতে আসতে।” মিতা বলে, “এটা তো পাত্রের কথা।” অনিল বলে, “পাত্র আসেনি কেন?” মীরা বলে, “পাত্রকে আমি ফোন করিনি।” মিতা বলে, “মা, তুমি পাত্রের নম্বরে ফোন করেছিলে।” মীরা বলে, “আমি ভুল নম্বরে ফোন করেছিলাম নাকি?” শিবু হাত তোলে। “আমি সেই ভুল নম্বর।” সবাই চুপ করে থাকে। শিবু আবার বলে, “ভুল নম্বর হলে ভাত দেবেন না?” অনিল ঘড়ি দেখে। “মাছ ঠান্ডা হচ্ছে।” মীরা অনিলের দিকে তাকায়। “তুমি কি এখন ওকে খাবার দেবে?” অনিল বলে, “আমি ডাকিনি। কিন্তু মাছ নষ্ট হবে।” মিতা বলে, “তাহলে শিবুকে বসতে দাও।” শিবু বসে বলে, “আমি বসেই আছি।” মীরা ভাতের থালা আনে। “শিবু, আপনি কতক্ষণ থাকবেন?” শিবু বলে, “খাওয়া শেষ হলে বলব।” অনিল বলে, “আপনাকে কাল আবার ফোন করা হবে।” শিবু মাছ নিয়ে বলে, “তাহলে কালও আসব?” মিতা বলে, “কাল আপনাকে কেউ ডাকবে না।” শিবু বলে, “আজও তো কেউ ডাকেনি।” মীরা চুপ করে তার থালায় আরেক টুকরো মাছ দেয়।