দেরির ঘড়ির দোকান আজ রফিকের ঘড়ির দোকান খোলার দিন। দোকানটি তার বাড়ির সামনের ছোট ঘরে। সকাল আটটায় প্রথম ক্রেতা আসার কথা। রফিক সকাল দশটায় ঘড়ি হাতে বের হয়। তার স্ত্রী মিতা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। মিতা বলে, “আজও তুমি দেরি করলে?” রফিক বলে, “না, আজ সময় ঠিক আছে।” মিতা দেয়ালের ঘড়ির দিকে তাকায়। “দেয়ালের ঘড়িতে এখন দশটা।” রফিক নিজের ঘড়ি দেখে বলে, “আমার ঘড়িতে আটটা।” মিতা বলে, “তোমার ঘড়ি কি ঠিক?” রফিক বলে, “আমি ঘড়ি ঠিক করি।” রফিক দোকানে ঢোকে। দোকানের টেবিলে সাতটি ঘড়ি থাকে। সব ঘড়ি আলাদা সময় দেখায়। একটি ঘড়ি পাঁচটা দেখায়। একটি ঘড়ি বারোটা দেখায়। আরেকটি ঘড়ি কাঁটা ছাড়া থাকে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকে করিম। করিমের হাতে একটি পুরোনো ঘড়ি। করিম বলে, “আমার ঘড়ি বন্ধ হয়েছে।” রফিক বলে, “আজই ঠিক করে দেব।” করিম জিজ্ঞেস করে, “কখন?” রফিক বলে, “দুপুরে।” করিম জানালার বাইরে তাকায়। “দুপুর তো অনেক দূরে নয়।” রফিক বলে, “আমার দুপুর একটু পরে আসে।” মিতা দোকানে ঢোকে। তার হাতে চায়ের কাপ। মিতা বলে, “চা খাও, তারপর কাজ করো।” রফিক কাপ নেয়। করিম বলে, “চা খেলে কি ঘড়ি চলে?” রফিক বলে, “চা খেলে আমি চলি।” মিতা বলে, “তুমি চললেও সময় চলে।” রফিক ঘড়িটি খুলে। সে একটি ছোট স্ক্রু হাতে নেয়। স্ক্রুটি মেঝেতে পড়ে যায়। রফিক টেবিলের নিচে বসে খোঁজে। করিমও নিচে বসে খোঁজে। মিতা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। করিম বলে, “স্ক্রু পেলেন?” রফিক বলে, “না, এখনো না।” মিতা বলে, “দুপুর হয়ে গেল।” রফিক বলে, “না, আমার ঘড়িতে এখন সকাল।” করিম নিজের ঘড়ি দেখায়। “আমার ঘড়ি তো বন্ধ।” রফিক বলে, “তাই তো এটি ঠিক করতে হবে।” দোকানের বাইরে এক ছেলে আসে। ছেলেটি বলে, “রফিক কাকা, আপনার দোকান খুলেছে?” রফিক বলে, “হ্যাঁ, আজ খুলেছে।” ছেলেটি বলে, “তাহলে দরজা বন্ধ কেন?” রফিক দরজার দিকে তাকায়। দরজা সত্যিই বন্ধ থাকে। মিতা দরজা খুলে দেয়। করিম উঠে দাঁড়ায়। সে বলে, “আমার ঘড়ি কখন পাব?” রফিক বলে, “এক ঘণ্টা পরে।” মিতা দেয়ালের ঘড়ি দেখে। “এখন চারটা।” রফিক নিজের ঘড়ি দেখে। “এখনও আটটা।” রফিক স্ক্রুটি খুঁজে পায়। স্ক্রুটি তার পকেটে থাকে। সে ঘড়িটি হাতে নিয়ে চুপ করে থাকে। করিম বলে, “স্ক্রু পেয়েছেন?” রফিক বলে, “হ্যাঁ।” করিম বলে, “ঘড়ি ঠিক হয়েছে?” রফিক বলে, “কাল ঠিক হবে।” মিতা বলে, “কাল কখন?” রফিক বলে, “সকাল আটটায়।” মিতা দোকানের সব ঘড়ি একসঙ্গে থামিয়ে দেয়। তারপর সে রফিকের ঘড়ি খুলে নেয়। রফিক বলে, “ওটা কেন নিলে?” মিতা বলে, “তুমি দেরি করো, ঘড়ি নয়।” সে ঘড়িটি করিমের হাতে দেয়। করিম ঘড়ি দেখে বলে, “এতে তো সময় নেই।” মিতা বলে, “তাই রফিককে কাল সময়ে আসতে হবে।”