বাজার ঢাকায় মীরা থাকে। আজ সন্ধ্যায় তার প্রতিবেশী খেতে আসছে। বাজার আর বেশি সময় খোলা নেই। তার ছোট রান্নাঘরে আজ আলু দরকার। মীরা কয়েক সপ্তাহ আগে এখানে এসেছে। সে খুব কম বাংলা জানে। মীরা বাজারে আসে। বাজারে অনেক মানুষ আছে। সামনে করিমের ছোট খাবারের দোকান। করিম দোকানে বসে আছে। তার সামনে সবজি, পেঁয়াজ, মরিচ আর লবণ আছে। মীরা একটি জিনিসের দিকে আঙুল দেখায়। সে বলে, “এটা, দয়া করে।” করিম পেঁয়াজের একটি ছোট ব্যাগ দেয়। মীরা ব্যাগ দেখে। সে বলে, “না, না। এটা নয়।” সে আবার আঙুল দেখায়। এবার সে আলুর দিকে দেখায়। করিম মরিচের একটি বড় ব্যাগ দেয়। মীরা ব্যাগ দেখে। তার চোখ বড় হয়। সে বলে, “না। এটা নয়। ওইটা।” করিম হাসে। সে বলে, “এইটা?” মীরা বলে, “না। ওইটা, দয়া করে।” করিম এবার লবণের বাক্স তোলে। মীরা লবণের বাক্স দেখে। সে দুই হাত সামনে রাখে। “না, না,” মীরা বলে। “এটা নয়।” করিম হাসে। সে রাগ করে না। সে ধীরে ধীরে মীরার আঙুল দেখে। তারপর সে নিজে আলু হাতে তোলে। করিম বলে, “আলু।” মীরা তার মুখ দেখে। সে ধীরে বলে, “আল।” করিম নরম গলায় বলে, “আলু।” মীরা আবার বলে, “আলু।” করিম বলে, “হ্যাঁ, আলু। এক টাকা একটার।” মীরা ব্যাগ দেখে। সে টাকার ছোট নোট বের করে। “দুইটা,” মীরা বলে। তারপর সে থামে। “আলু, দয়া করে।” করিম দুইটি আলু ব্যাগে রাখে। সে টাকা নেয়। তারপর সে আরেকটি আলু হাতে নেয়। মীরা বলে, “না, না। দুইটা।” করিম বলে, “এই নিন, আলু।” সে তৃতীয় আলুটিও ব্যাগে রাখে। মীরা টাকার দিকে তাকায়। করিম বলে, “দুইটার টাকা। এইটা টাকা লাগবে না।” মীরা বুঝতে পারে না। সে বলে, “কত?” করিম হাতে দুই আঙুল দেখায়। তারপর সে টাকার নোট দেখায়। মীরা দুই টাকার নোট দেয়। করিম টাকা নেয়। মীরা বলে, “ধন্যবাদ।” করিম বলে, “হ্যাঁ।” মীরা ব্যাগ হাতে নেয়। সে দোকান থেকে বের হয়। রাস্তা এখন অন্ধকার হয়। তার হাতে ছোট ব্যাগ। ব্যাগে তিনটি সবজি আছে। মীরা ধীরে হাঁটে। সে নিচু গলায় বলে, “আলু।” সে কথাটি আবার বলে। “আলু।” বাড়ির দরজায় এসে সে চাবি বের করে। সিঁড়ির উপরে একজন প্রতিবেশী দাঁড়িয়ে আছে।