প্রথম কাজের রাত রাফি আজ ছায়া সিনেমা হলে দাঁড়িয়ে আছে। আজ তার প্রথম কাজের দিন। কলেজের পর সে এই কাজ পেয়েছে। বাড়ির ভাড়ায় সে টাকা দিতে চায়। ম্যানেজার মায়া টিকিটের বাক্স দেখান। তিনি বলেন, “টিকিট নাও, টাকা গুনে রাখো।” রাফি বলে, “ভুল হলে কী করব?” “আবার গুনবে।” “আবারও ভুল হলে?” “আমাকে ডাকবে, তারপর আবার গুনবে।” রাফি প্রথম টিকিট বিক্রি করে। এক লোক একশ টাকার নোট দেন। রাফি টাকা তিনবার গুনে ফেরত দেয়। মায়া বলেন, “তুমি লোকটাকে দশ টাকা বেশি দিয়েছ।” “আমি তো তিনবার গুনেছি।” “তিনবারই একই ভুল করেছ।” রাফি আবার টাকা গুনে রাখে। দরজার বাইরে মানুষের কথা শোনা যায়। নতুন ছবির প্রথম রাত আজ। রাফি জিজ্ঞেস করে, “আপনি ছবিটা দেখেছেন?” “সাতবার।” “ছবিটা আজই শুরু হলো।” “আমি কাজের আগে দেখি।” “সাতবার?” “শেষটা বুঝতে আমার সময় লেগেছে।” রাফি কিছু বলে না। তখন নীলা টিকিটের সামনে আসে। সে রাফির কলেজে পড়ে। রাফি দ্রুত তার জামা ঠিক করে। নীলা বলে, “তুমি এখানে কাজ করো?” “আজ থেকে।” “একটা টিকিট দাও।” “একটা?” “হ্যাঁ, আমি একাই ছবি দেখি।” রাফি টিকিট দেয়, কিন্তু টাকা নেয় না। নীলা হাত বাড়িয়ে টাকা ধরে থাকে। সে বলে, “টাকা নেবে না?” “নেব, অবশ্যই নেব।” “তাহলে আমার হাত কেন ধরে আছ?” রাফি সঙ্গে সঙ্গে হাত ছেড়ে দেয়। মায়া পাশ থেকে সব দেখেন। মায়া বলেন, “টিকিট নাও, টাকা গুনে রাখো।” রাফি নিচু গলায় বলে, “আমি জানি।” নীলা বলে, “ভুল হলে কী করবে?” “আবার গুনব।” “আবারও ভুল হলে?” “মায়াকে ডাকব, তারপর আবার গুনব।” মায়া বলেন, “এই ছবিতে ঠিক এই কথা আছে।” রাফি তাঁর দিকে তাকায়। “কোন কথা?” “আবার গুনব।” “কোন দৃশ্যে?” “বিয়ের আগের রাতে, রান্নাঘরের দৃশ্যে।” নীলা হেসে বলে, “আপনি সব ছবি জানেন?” “সব না, শুধু যেগুলো দেখেছি।” “কতগুলো দেখেছেন?” মায়া একটু ভাবেন। “এই প্রশ্নের উত্তর লম্বা।” হলের ঘণ্টা বাজে। নীলা টিকিট নিয়ে দরজার দিকে যায়। তারপর সে ফিরে আসে। “রাফি, কাজ কখন শেষ?” “রাত দশটায়।” “আমি দশটা পর্যন্ত পাশের দোকানে থাকব।” “কেন?” “তোমার টাকা গোনা শেষ হবে না।” নীলা ভেতরে চলে যায়। রাফি এবার টাকাটা ঠিক করে গুনে রাখে। মায়া বলেন, “ওই কথাও এক ছবিতে আছে।” রাফি বলে, “শেষটা বলবেন না।” মায়া দরজা খুলে বলেন, “দশটার পর নিজেই দেখো।”